ঈদ বোনাস এবং বেতন
আমররা যরা বেসরকারি চাকরি করি তাদের বেতন বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। যাদের বেতন বেশি তারা সুবিদাও ভোগ করেন বেশি। আর যাদের বেতন কম তারা দিন রাত গাধার খাটুনি খেটে মাস শেষে পকেটে জুটে নাম মাত্র কিছু টাকা। যে কোন ছুটিতে দেখা যায় যাদের বেতন বেশি তারা পান লম্বা এক ছুটি, যে কোন ছুটি মানে ঈদ, পুজা, শীতকালিন ছুটি ইত্যাদি। আর যাদের বেতন কম তারা ছুটিও পায় কম। মনে করুন ঈদ সামনে সবার বেতন দিতে হবে, কিছু কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যারা কিনা এখানেও একটা বৈষম্য সৃষ্টি করে, যাাদের বেতন বেশি তারা বেতন আগে পায় আর যাদের বেতন কম তারা কিনা পরে পায়। কি আজব সিস্টেম মাইরে। আর ঈদ বোনাস সেতো এক ঈদে দিলে পরের ঈদে হাওয়া। এ বছর ঈদ ৫ কিংবা ৬ তারিখে মনে করুন আপনি যে প্রতিষ্ঠানে জব করেন তা বন্ধ হবে ৩১ তারিখ থেকে আর আপনি বেতন পাবেন মাসের ৩০ তারিখে। এবার চিন্তা কিরুন , একে তো আপনার বেতন কম ,তার উপরে বেতন পেলেন ঈদের কিছু দিন আগে পরিবারের জন্য ভালো কিছু কিনবেন তারও কোন উপায় নেই। এখন মার্কেটে গেলে যা কিনতে চাইবে তার দামই হবে দিগুন। এবার একটু বাস্তবতার কথা বলি কিছু দিন আগে আমরা একটা খবর শুনতে পাই লিচু খেতে চাওয়ায় বাবা তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে । এবার একটু চিন্তা করুন যে বাবা সন্তানের জন্য জীবন দিতেও দিদা করে না , সে বাবা কিনা তার নিজ হাতে সন্তান কে মারলো। শুনেছিলাম ঐ বাবা নাকি দারোয়ানের চাকরি করতো । আপনি জানেন কি আমাদের দেশে একটা দারোয়ানের বেতন কত , তারা কি কি সুযোগ সুবিদা পায়। না ! আমররা অনেক মানুষই তা জানি না, জানার চেষ্টা ও করিনা। একজন দারোয়ান সারাবছর ডিউটি করে, তারা কোন ছুটি পায়না , অর্থাৎ সপ্তাহে সাত দিন মাসে ৩০ দিন আর বছরে ৩৬৫ দিনই তারা ডিউটি করে , ঈদেও তাদের ছুটি নেই। কিন্তু তাদের বেতন সর্বসাকুল্যে ৮-১২ হাজার টাকা । এ টাকা দিয়েই তার সংসার খরচ , যাবতিয় সব খরচ চলে। এবার একটু কল্পনা করুন আপনি আপনার আদরের সন্তানকে নিয়ে বাজারে গেলেন আপনার সন্তান আপনার কাছে কিছু খেতে চাইলো, আপনার পকেটে সেই জিনিস কেনার মত টাকা নেই , আপনি আপনার সন্তানকে বলেন বাবা ঐটা পচা জিনিস, এই বলে সান্তনা দেন সন্তানকে , না !! এ সান্তনা সন্তানকে না , নিজেকে দিচ্ছেন।

No comments
Post a Comment