Header Ads

Header ADS

ক্যাসিনো কি? ক্যাসিনো ব্যবসা কি বাংলাদেশে বৈধ না অবৈধ?



দু-একদিন পরপরই আমরা দেখতে পাই রাস্তার ধারে ফুটপাতে কিংবা বড় বড় ক্যাসিনোতে অভিযান চলে । ধরা হয় বড় বড় গটফাদারদের আর রাস্তার ফুটপাতে থাকা সেই দোকানগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া হয়। নিঃসন্দেহে এসব কাজ প্রসংসার সামিল । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মাথা তুলে দাড়াবার আগেই কি এদের নির্মূল করা যায় না? ক্যাসিনো কি? ক্যাসিনো ব্যবসা কি বাংলাদেশে বৈধ না অবৈধ?

ক্যাসিনো কি?

প্রায় দুই হাজার বছর আগে জুয়া খেলার উত্থান। শুরুর দিকে অনিয়ন্ত্রিত জুয়ার আসরের কারণেই ক্যাসিনোর উৎপত্তি।  ক্যাসিনো ইতালীয় ভাষার শব্দ যার মূল ক্যাসা অর্থ ঘর। ক্যাসিনো বলতে ছোট ভিলা, গ্রীষ্মকালীন ঘর কিংবা সামাজিক ক্লাবকে বোঝানো হতো। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুয়ার আসরে চলে ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা। উড়ানো হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে রয়েছে এমন অসংখ্য ক্যাসিনো যেখানে জুয়ার নেশায় মেতে থাকেন জুয়াড়িরা। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, নেপালসহ অসংখ্য দেশে গড়ে উঠেছে এই টাকা উড়ানোর আসর। অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি খেলার ছলে মনোরঞ্জনের জন্য এসব ক্যাসিনোতে এসে থাকেন।

ক্যাসিনোর ইতিহাস
এখন পর্যন্ত ক্যাসিনো সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব হয় নি। কারণ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, পৃথিবীর শুরু থেকেই বাজি বা জুয়া খেলার প্রচলন ছিল। আর বর্তমানে সকল দেশেই কম বেশি এর প্রচলন আছে।

ইউরোপের ইতিহাসে ক্যাসিনো
তবে ইউরোপের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইতালিতে সর্বপ্রথম ১৬৩৮ সালে ভেনিস শহরে রীডোট্ট নামে এক ক্যাসিনো তৈরি করা হয়েছিলো। ওই সময়কার জ্ঞানী লোকদের পরামর্শে এটি তৈরি করা হয়। আর এর উদ্দেশ্য ছিলো কার্নিভাল সিজনে সচারাচার হওয়া জুয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা। তবে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ভেবে ১৭৭৪ সালে সেই শহরের প্রধান এটিকে বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশে ক্যাসিনো

 বাংলাদেশে ক্যাসিনো তো দুরের কথা সাধারন তাস খেলাই নিষিদ্ধ । যে দেশে কিনা তাস খেললেও পুলিশে ধরে সে দেশে ক্যাসিনো ভাবা যায়! । ভাবতেই কেমন যেন গা শিউরে উঠে। যে দেশে সাধারন পাবলিক জুয়া খেললে পুলিশ লাঠি নিয়ে দৌড়ায়, সে দেশে ক্যাসিনোতে দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে  পুলিশের চোখকে ফাকি দিয়ে। কি করে সম্ভব?

ক্যাসিনো ব্যবসা কি বাংলাদেশে বৈধ না অবৈধ ?

 বাংলাদেশে ক্যাসিনো ব্যবসা নিষিদ্ধ বা অবৈধ। তাহলে প্রশ্ন জাগে তবে কি করে গড়ে উঠল এত ক্যাসিনো। পুলিশ বলতেছে তারা জানা মাত্র একসনে যাচ্ছে , আসলেই কি তাই?। ক্যাসিনো ব্যবসা করতে হলে যে সব জুয়ার সরঞ্জাম দরকার তা সরবরাহ করতে হয় বিদেশ থেকে। তার মানে কাস্টমস এর চেকের পরে এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে কি কাস্টমসের কোন গাফলতি আছে । নাকি কাস্টমস মনে করে নিয়েছে এসব বৈধ। তবে কি বলা যেতে পারে আপনারাই তাদেরকে ব্যবসা করতে দিলেন আবার আপনারাই তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন । অনেকটা
আদর কইরা ধরে তুইলা ঘার ধইরা নামানোর মত। 

ফুটপাতের দোকান

ঢাকার  শহরে ফুটপাতে দোকান গুলোর দিকে একটু ভালোমত খেয়াল করলে দেখতে পাবেন  এদের জীবন অনেকটা ভাঙ্গা-গড়ার মত । একটু বিস্তারিত আলোচনা করলে বিষয়টা ক্লিয়ার হবেন, আশা করি তখন আর কারো বুঝতে অসুবিধা হবে না। 
ঢাকার শহরে বিভিন্ন ফুটপাতে দিনের পর দিন গড়ে উঠে বিভিন্ন রং - বেরং এর দোকান। এসব দোকানের ক্রেতাও নেহাত কম নয়। চাকরিজীবি থেকে শুরু করে পুলিশ, দিনমজুর সবাই এদের কাস্টোমার । 
দিনের পর দিন এরা ব্যবসা করে যাচ্ছে পুলিশের চোখের সামনে , নিয়ম করে প্রতিদিন নাস্তা করা হয় ফুটপাতের এই দোকানগুলোতে। অনেক সময় দেখা যায় রাস্তায় জ্যাম লেগে যায়  ফুটপাতেরে এই দোকান গুলোর কারনে । ঢাকার শহরের ব্যস্ততম জায়গা ‍গুলিস্তানে তো রাত্র হলে ফুটপাতের দোকানের কারনে আপনি হাটারও জায়গা পাবেন না। 

কিন্তু যে দিন শুনে কোন ভিআইপি বা কোন মন্ত্রী আসবে তখনই দেখা যায় আসল খেলা। অর্থাৎ ফুটপাতের দোকানদার আর পুলিশের মধ্যে চলতে থাকে চোর-পুলিশ খেলা। কখনো যদি আপনার   সামনে ঘটে এ খেলা তবে দেখবেন কত মজার খেলা । পুলিশ এপাশ দিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে আর ও পাশে কেউ দৌড়ে পালাচ্ছে। আবার দেখবেন কিছুক্ষন পর সব আগের মতই ঠিক হয়ে গেছে। ঐ যে বললাম ভাঙ্গা গড়ার খেলা।

যদি ফুটপাতে দোকান করা অবৈধ হয় তবে কেন তাদেরকে ফুটপাতে দোকান করতে দেওয়া হয়। আর দিয়েই বা কেন আবার দৌড়ানি দেওয়া হয়।



No comments

Theme images by A330Pilot. Powered by Blogger.